দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন মালয়ালম অভিনেত্রী, টেলিভিশন উপস্থাপক ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার পার্ল মানি। বিতর্কের জেরে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুসারী কমেছে ৩ লাখের বেশি। একই সঙ্গে ফেসবুক ও ইউটিউবেও অনুসারী হারিয়েছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
গত ২৪ জুলাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ একটি পোস্ট প্রকাশ করেন পার্ল মানি। তখন তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২৭ লাখ। ২৬ জুলাই তা কমে প্রায় ২৪ লাখে নেমে আসে। পোস্টটি ঘিরে সমালোচনা বাড়তে থাকায় তিনি মন্তব্য করার সুযোগ বন্ধ করে দেন। তবে তাঁর অন্যান্য পোস্টে সমালোচনামূলক মন্তব্য অব্যাহত রয়েছে।
সমালোচকদের একজন মন্তব্য করেন, পার্ল আন্দোলনকারীদের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝেন না, কারণ তিনি সুবিধাপ্রাপ্ত পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। আরেকজন লেখেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বললেও মন্তব্যের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া সেই বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
নিজের পোস্টে পার্ল আন্দোলনকে "বেদনাদায়ক" ও "হৃদয়বিদারক" উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ওপর জোর দেন। তিনি লেখেন, কোনো আন্দোলনই একটি প্রাণের চেয়ে মূল্যবান নয় এবং জীবন ঝুঁকিতে মনে হলে আন্দোলন ছেড়ে নিরাপদে ফিরে যাওয়াই উচিত।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য শিক্ষাব্যবস্থার দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলন যত বড় হয়, ততই আবেগ ও মতভেদের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের দাবিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উচিত।
পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, "কমেন্ট সেকশন আমার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতিফলন।" তবে পরে সেই মন্তব্যের সুযোগই বন্ধ করে দেন, যা নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেয়।
বিতর্কের মধ্যে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দেওয়া আরেক পোস্টে নাম উল্লেখ না করে এক "ব্যর্থ চলচ্চিত্র নির্মাতা"কে কটাক্ষ করেন পার্ল। তিনি দাবি করেন, শান্তি, নিরাপত্তা ও অহিংসার পক্ষে অবস্থান নেওয়াই অনেকের অস্বস্তির কারণ হয়েছে এবং তাঁর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
আরেকটি স্টোরিতে তিনি লেখেন, তাঁর সবচেয়ে প্রিয় রং গেরুয়া, বিশেষ করে ভারতের জাতীয় পতাকায় থাকা গেরুয়া রং।
এর জবাবে প্রতিক্রিয়া জানান মালয়ালমের খ্যাতিমান নির্মাতা সিবি মালয়িলের ছেলে জো মালয়িল। তিনি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দাবি করেন, পার্ল যে "ব্যর্থ নির্মাতা"র কথা বলেছেন, তিনি তাঁর বাবা। ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাব দিতেই তিনি সামনে এসেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
এর আগে জো মালয়িল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে পার্লের অবস্থানের সমালোচনা করেছিলেন।
পুরো ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক পক্ষ পার্লের শান্তি ও অহিংসার আহ্বানকে সমর্থন জানালেও অন্য পক্ষের অভিযোগ, তাঁর বক্তব্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বাস্তবতা ও ক্ষোভকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করেনি।
সমালোচনার জেরে ইনস্টাগ্রামে কয়েক লাখ অনুসারী হারানো এবং মন্তব্যের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাই এখন এই বিতর্কের মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
যে আই